এক.
সারাদিন খেটে খুটে কিছু টাকা নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরল বদর আলী। কাজের চাপে শরীরটা ক্লান্ত হয়ে আছে বেশ। সারাদিনের খাটুনিতে কোমরটা যেন বেঁকে বসেছে। আজ আর অন্যান্য দিনের মত কোন কাজে হাত দেবে না সে। বাড়ি এসে দাওয়ায় রাখা মাটির কলস থেকে পানি ঢেলে হাত-মুখ ধুলো বদর। তারপর আর কিছুই করল না। গরু-বাছুর বাইরেই বাঁধা রইল। সেগুলোর যত্নআত্তি করার মতো মনের অবস্থা তার নেই। সোজা ঘরে গিয়ে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল সে। রাজ্যের ঘুম এসে হাজির হলো তার চোখে। ফুলবানু অবাক হয়ে তার স্বামীর কাণ্ড দেখল।
বদর আলীর ফিরতে একটু দেরি হয়েছে আজ। বাড়ির কোন কাজকর্মও করেনি। ফিরে এসে ধপাস করে শুয়ে পড়েছে। অবস্থাটা ঠিক ভালো ঠেকছে না। স্বামীদের হঠাৎ এমন হয়ে যাওয়াটা স্ত্রীদের জন্য বড় আতঙ্কের।
মানুষের মন বড়ই বিচিত্র জিনিস। স্বাভাবিক নিয়মের সামান্য ব্যতিক্রম হলেই মনে নানান কুচিন্তা এসে বাসা বাঁধে। ফুলবানুর মনেও বাঁধল। স্বামী তার ঘরে ফিরে কোনো কথা বলল না, হাত-মুখ ধুয়েই শুয়ে পড়ল। ব্যাপারটা কী?
স্বামী আসার পর থেকে ফুলবানু কোন কাজে মন বসাতে পারছে না। কি এক অজানা চিন্তায় যেনো তার ভেতরটা বারবার ফুঁসে উঠতে লাগলো। মনের ভেতর হতাশার কালো ছায়া যেনো ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে। এক অদ্ভুত জন্ত্রনা অনুভব হচ্ছে। হাত-পা যেনো অসার হয়ে আসছে। তার কেবলই মনে হতে লাগলো- লোকটা অন্য কোনো বেডির মায়ায় পড়ল নাকি? এই ভাবনাটা সাপের মতো বারবার তার মাথায় ছোবল দিতে লাগল।
পাতিলের ভাত পাতিলেই রইল। ফুলবানুর গলা দিয়ে ভাত নামলো না এই রাতে। চিন্তায় তার মুখটা শুকিয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গেছে।
দুই.
অনেকদিন পর বদর আলীর ভালো কিছু খেতে ইচ্ছে করছে। কতদিন হয়ে গেল মাছ-গোশত খাওয়া হয় না। তার বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, হাজারো অভাব অনটনের মাঝেও হাটের সবচেয়ে বড় মাছটাই সাথে নিয়ে ফিরতেন। এখন আর বাবা নেই। আজ ৬ বছর হলো গত হয়েছেন।
মৃত বাবার কথা খুব মনে পড়ছে বদর আলীর। বাবাকে অনেক মোহাব্বত করতো সে। তখন কামাই-রোজগার ছিলো না। টই টই করে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ানো আর সন্ধ্যায় বন্ধুদের নিয়ে মানুষের ফলদার গাছগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়াটাই যেনো ছিলো তার সরকারি দায়িত্ব। বাবাকে সে সুখে রাখতে পারেনি। ভালো-মন্দ খাওয়াতে পারেনি। এখন মা’ই সম্বল। মাকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। বুড়ি মানুষটা কতটুকুই বা খায়। তবুও মায়ের জন্য আর বউটার জন্য একটা বড় মাছ কেনা দরকার।
বুক পকেটে রাখা টাকাগুলো একবার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল সে। তারপর উঠে দাঁড়াল। মাথায় সুন্দর করে সিঁথি কেটে হাঁটা দিল বাজারের দিকে। এদিকে দাওয়ায় বসে ফুলবানু অবাক চোখে তাকিয়ে রইল তার স্বামীর দিকে। কি এক ভাবনায় হঠাৎ তার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো। সে ভাবছে, লোকটা এমন কইরা সিঁথি কাইটা কই যায়? কপাল কুঁচকে ফুলবানু মনে করার চেষ্টা করলো, বদর আলী আগে কখনো এমন করেছে কিনা।
তিন.
অজপাড়া গাঁয়ে যেকোনো নতুন জিনিসই মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। মতি মিয়ার দোকানে ঝোলানো জিনিসটা নতুন। গ্রামের কেউ আগে এই অদ্ভুত জিনিসটা দেখেনি। সবাই গোল হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বাজারে প্রবেশ করতেই মতি মিয়ার দোকানে ভিড় দেখতে পেল বদর আলী। ত্বরিত হাঁটা দিল সেই জনসমাগমের দিকে। ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল সে।
মতি মিয়ার দোকানে ঝোলানো জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত। জিনিসটার ভেতরে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। লাইন ধরে সবাই সেই দৃশ্যই দেখার চেস্টা করছে। একনজর দেখার পর কেউ গামছা দিয়ে চোখ মুছছে, আবার কেউ খিলখিলিয়ে হাসছে। বদর আলীর আর তর সইছে না। কৌতুহল ধরে রাখতে পারছে না আর। কি এমন জিনিস! যেটা দেখে কেউ কাঁদছে তো কেউ হাসছে? জিনিসটা একনজর দেখার পর কাঁদবে নাকি হাসবে সেটাই ভাবছে বদর।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর পালা এলো বদর আলীর। জিনিসটার সামনে দাঁড়াতেই তার বুকের ভেতরটা সাপের ফনার মত মোচড় দিয়ে উঠল। চোখ দুটো পানিতে ভরে গেল। মূহুর্তের জন্য সবকিছু ঝাঁপসা হয়ে গেলো। জামার হাতা দিয়ে চোখ মুছে বদর। আরেকবার তাকায় তার হাতে থাকা জিনিসটার দিকে। জিনিসটার ভেতর তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। জলজ্যান্ত মানুষ। কী আশ্চর্য! যে মানুষটা ৬ বছর আগে পরপারের বাসিন্দা হয়েছেন, সে কি করে এখানে!!
মতি মিয়ার দোকান পেরিয়ে আর ভেতর বাজারে গেলো না বদর। আজ আর মাছ কেনা হলো না তার। মতি মিয়ার কাছ থেকে চড়া দামে সেই জিনিসটা কিনে নিল সে। তারপর ওটাকে সযত্নে বুকে জড়িয়ে ছলছল নয়নে হাঁটা দিলো বাড়ির দিকে। তার এ হাঁটায় অন্য এক বদর আলীর প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে।
চার.
বদর বাড়িতে পৌঁছে মা ও ফুলবানুর অগোচরে ঘরের কোণে থাকা পুরনো সিন্দুকের মধ্যে রেখে দিল জিনিসটি।
মা এসে জিজ্ঞেস করলেন— কিরে বদর? বাজার সদাই কিছু আনছোস?
উত্তর দিতে গিয়ে বদর আলীর গলা আটকে যায়। সে সাধারনত মিথ্যা কথা বলে না। কিন্তু আজকে কি তাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে? তাও আবার মায়ের কথার প্রতিউত্তরে!
বদর আলী মায়ের চোখের দিকে তাকাতে পারল না। সে ঢোঁক গিলে সন্ত্রস্ত কণ্ঠে বলল—না মা। আইজকা ভালো কিছু পাই নাই। জুম্মাবারে বড় দেইখা একখান মাছ আনমুনে।
মায়ের সামনে মিথ্যা বলতে তার ভালো লাগলো না। কিন্তু সত্যিটা বলারও কোনো উপায় নেই।
বদরের মা চলে গেলেন। বদর হাঁটু গেড়ে বসল সিন্দুকটির সামনে। জিনিসটা বের করে তাকিয়ে রইল বিস্ফারিত নয়নে। চোখ দুটো আবার ভিজে উঠল তার। কাঁধে থাকা গামছা দিয়ে জিনিসটা ভালো করে মুছে নিলো একবার। তার বাবা তাকিয়ে আছে তার দিকে। বাজান! ও বাজান! বলে ডাক পারে সে। কিন্তু তার বাজান কোন কথা বলে না। সে হাত বুলিয়ে যায় বাবার চেহারায়। চোখ বেয়ে তার টপটপ করে পানি ঝরে।
পাঁচ.
বদর আলীর মন বিষন্ন। ভারাক্রান্ত। কাজে আর মন বসে না এখন। মনটা পড়ে থাকে সেই ঘরের কোণে থাকা সিন্দুকটির কাছে। বাড়িতে এসেও ঘরকোনা হয়ে বসে থাকে সারাক্ষন। পরীর মত বউটার সাথে মন খুলে দুটো কথা বলার সময়ও যেনো তার নেই।
এদিকে ফুলবানুর চিন্তার শেষ নেই। পাশের বাড়ির ভাবী তাকে কানপড়া দিয়ে বলেছে—যে কথা হুনাইলা গো ফুলবানু! বদর আলী নিশ্চয় কোন ন... রে বিয়া করছে। এতে কোন সন্দেহ নাই।
এসব শুনে ফুলবানুর তাজা ফুলের মত মুখটা শুকিয়ে একেবারে নেতিয়ে পড়া কমলার খোসার মত হয়ে গেছে। নাওয়া খাওয়া সব বাদ দিয়ে সারাক্ষণ শুধু বারান্দার খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে থাকে। অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বাড়ির বাইরে থাকা তেঁতুল গাছটার দিকে।
পুত্রবধূর এই অবস্থা দেখে বদরের মা মিটমিটিয়ে হাসে। কানের কাছে গিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে—কিগো বউ! নাওয়া খাওয়া ছাইড়া দিলা কেন? সারাদিন খালি এইহানে বইয়া থাকো। বউ! তোমার কি আবার দি... পড়ছে নাকি?
ফুলবানু জবাব দেয় না। পাথরের মত বসে থাকে সে। তার নিষ্পলক দৃষ্টি আগের জায়গাতেই নিবদ্ধ। কোন নড়চড় নেই। শুধু চোখ দুটো ভিজে যায় খানিক পরপর। রোদের আলোতে সেই লোচন দুটিতে মুক্তার দানার মতো চাণক্যের সৃষ্টি হয়। বুড়ি শাশুড়ি মনে হয় সেগুলো দেখতে পায় না। তিনি আছেন একটি চিৎকারের অপেক্ষায়। একটি আনন্দময় চিৎকারের। যেই চিৎকারে সবাই আনন্দিত হয়। মুগ্ধ হয়। হয় বিমোহিত।
ফুলবানুর আর তর সইছে না। তার মনে এবার সাহস জেগেছে। আর বসে থাকা নয়। এর একটা বিহিত করতেই হবে। আর কত সহ্য করবে সে এই হিংসার দহন। প্রতিদিনই এমন করে বদর আলী। এটা তার দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথা নেই বার্তা নেই শুধু ঘরের কোনে বসে থাকে। বিষয়টা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেলেই ব্যাগ গোছাবে সে।
ছয়.
নিশিরাত। কিছুক্ষণ পরেই ফজরের আজান হবে। পাখিগুলো জাগতে শুরু করেছে। দু-একটা পাখির মিষ্টি সুর শোনা যাচ্ছে। সেই মিষ্টি সুরের সাথে আরেকটি গুনগুন সুর ভেসে আসছে। এটি যে কোন পাখির সুর নয় তা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে ফুলবানু। আস্তে আস্তে গুনগুন আওয়াজটা আরো উচ্চকিত হচ্ছে।
আধা চেতনে থেকেই হাত নাড়লো ফুলবানু। স্বামী তার বিছানায় নেই। নিমিষেই ঘুম উড়ে গেল তার চোখ থেকে। গলা শুকিয়ে গেল। তড়িঘড়ি করে শোয়া থেকে উঠে বসলো সে।
ঘরের কোণে দেখতে পেলো, টিমটিমে আলোতে বদর আলী সিন্দুকের সামনে বসে কিছু একটা বুকে জড়িয়ে বিড়বিড় করে কাঁদছে। এমন সুযোগ বারবার আসে না। এই মোক্ষম সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইলো না ফুলবানু। পায়ের আঙ্গুল টিপে টিপে বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে অগ্রসর হলো তার স্বামীর দিকে। বুকটা তার দুরু দুরু করছে।
বদর আলী টের পেল না ফুলবানুর উপস্থিতি। সে কাঁদতেই থাকলো। ফুলবানু তার স্বামীর পেছনে গিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়ালো। উঁকি মেরে দেখার চেষ্টা করলো লোকটা বুকের মধ্যে কি গুঁজে রেখেছে।
উহু। শত চেষ্টা করেও বুঝা গেলো না। অন্য উপায় বের করতে হবে। এবার কিছুটা সময় নিয়ে ফুলবানু নিজেকে সামলে নিলো। তারপর এক ঝটকায় স্বামীর কোল থেকে জিনিসটা কেড়ে নিল। বদর আলী হকচকিয়ে গেলো। চেহারার সামনে ধরতেই ফুলবানু দেখতে পেল, এক অস্পট যৌবনা কলিকা বয়সী মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার চোখে জল। মুখে অচেনা ভয়।
ফুলবানু আর ভাবতে পারল না। আম্মা গো... বলে এক গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে ধপাশ করে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। বদর আলী কিছুই তাল করতে পারল না।
চিৎকার শুনে দৌড়ে ছুটে আসে বদর আলীর মা। ততক্ষণে অতি গুরুত্বপূর্ন জিনিসটা সরিয়ে ফেলেছে সে। দুই বালতি পানি ঢালার পর চৈতন্য ফিরে পায় ফুলবানু। উঠেই শাশুড়ি মায়ের বুকে মাথা গুঁজে দিয়ে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। বদরের মা গলাকাটা মুরগির মত ছটফট করতে শুরু করল। আমার ফুলের মত বউটার আবার কি হইয়া গেল! নিশ্চয়ই জিনের নজর পড়ছে। খবিস জিন আর কাউরে পাইলো না? আমার একমাত্র পুতের বউরেই জ্বালাইতে অইবো?
—কি হইছে মা তোমার?
—সর্বনাশ হইছে গো আম্মা! সর্বনাশ!
বদর আলী কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। কি এমন সর্বনাশ হয়ে গেলো যে, বউটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো! কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছে না সে। যাত্রাপালার মঞ্চের সামনে বসে মানুষ যেভাবে যাত্রা দেখে, বদরও সেভাবে চুপ করে বসে একবার মায়ের দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার বউয়ের দিকে। সে যেন একজন বোবা দর্শক। সামনে যেন চলছে “বউ শাশুড়ির কর্মলীলা” নাটকের অভিনয়।
—কি সর্বনাশ হইছে মা? রাইত-বিরাইতে বাইরে গেছিলা নাকি? কোন জিন টিনে পাইল নাকি?
—না গো আম্মা। আপনার পুতে আরেক বেডিরে বিয়া কৈরালছে...
—কউ কি বউ! আমি তো কিছুই হুনি নাই!
—গোপনে করলে আর হুনবাইন কেমনে? তারে জিগাইন। আমার আর এই বাড়িত থাহা অইবো না আম্মা। আমি সতীনের সংসারে থাকবার পারুম না। মোরগ ডাকবার আগেই আমি বাইর হইয়া যামু। হু হু... আবার কান্না জুড়ে দিল ফুলবানু।
—কিরে বদর! বউ কি কয়! তুই আবার এই কাম করলি কবে?
হা করে তাকিয়ে আছে বদর। বউয়ের কথাগুলো সব মাথার উপর দিয়ে গেল মনে হয়। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না? সে কি শুনলো এসব?
বদর হারিয়ে যায় অন্য জগতে। মা তাকে আবার শুধালেন— কিরে বদর! কি হুনলাম এইসব? হাছা নাকি?
—কি যে কন আম্মা। ফুলবানুরে ঘরে রাইখা আমি এই কাজ করুম? আল্লাহ যেন আমার বুকে ঠাডা ফালায়...
ফুলবানুর চোখ দুটো এবার রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। কষ্টে তার ভেতরটা যেনো চুরমার হয়ে গেল। ব্যাটা আহ্লাদ দেখায়। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ফুলবানু বললো-
—মিছা কথা। ঠাডা পড়া মিছা কথা। আপনে দেখেন এই সিন্দুকের ভিতরে ঐ সতীনের ছবি আছে। সারারাত এইডা বুকে জড়াইয়া কানছে আপনের পুতে।
বদরের মা সিন্দুক খুলার পর আজব এক জিনিস দেখতে পেলেন। কৌতুহলবশত জিনিসটা হাতে নিয়ে মুখের সামনে ধরলেন। এক নজর দেখার পর ঘেন্নায় ছিঃ ছিঃ করে উঠলেন। শাসনের সুরে বদরকে বললেন-
—গোলামের পুত! বিয়া যখন করবি, দেশে যুবতী মাইয়া কম আছিলো? এমন চামড়ায় ভাঁজ পড়া একটা বুড়িরেই বিয়া করতে অইলো?
হঠাৎ বদর আলী অনুভব করলো তার সামনের সবকিছু ঘুরছে। ক্রমশই সেই ঘুর্নন তীব্র হচ্ছে। চারিদিক ঘুরছে। ঘুরছে তো ঘুরছেই। আস্তে আস্তে সব অন্ধকার হয়ে আসছে। নিজেকে আর সামলাতে পারলো না বদর আলী। কালবৈশাখী ঝড়ে সদ্য প্রোথিত আম গাছটার পড়ে যাওয়ার মতোই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো বদর আলী।
নোট: গল্পের মূল থিম সংগৃহীত
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন